টবের হিসাব আলাদা কেন
জমির সার সুপারিশ তৈরি হয় খোলা মাঠের জন্য, যেখানে শিকড় ইচ্ছেমতো ছড়াতে পারে আর মাটির নিচ থেকেও খাবার টেনে নেয়। টবে সেই সুযোগ নেই — মাটির আয়তন সীমিত, আর প্রতিবার পানি দেওয়ার সঙ্গে কিছু খাবার নিচ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
তাই এখানে হিসাব হয় টবের আকার আর গাছের ধরন ধরে, বিঘা ধরে নয়। উপরের ফল ১০ গ্যালন (৩৮ লিটার) টবের ভিত্তিতে হিসাব করা, আর আপনি যে আকার বাছবেন সেই অনুযায়ী আপনাআপনি কমে-বাড়ে।
কীভাবে দেবেন
- সার দেওয়ার আগে টবের মাটি হালকা ভিজিয়ে নিন — শুকনো মাটিতে দিলে শিকড় পুড়তে পারে।
- গাছের গোড়া থেকে অন্তত দুই আঙুল দূরে, টবের কিনারা ঘেঁষে ছড়িয়ে দিন।
- উপরে হালকা মাটি বা কম্পোস্ট টেনে ঢেকে দিন, তারপর পানি দিন।
- একবারে পুরোটা না দিয়ে চক্রের মধ্যে ভাগ করে দিলে গাছ ভালো নেয় আর অপচয় কম হয়।
জৈব সার বাদ দেবেন না
টবের মাটি কয়েক মৌসুমেই শক্ত হয়ে যায় আর পানি ধরে রাখার ক্ষমতা হারায়। কেবল রাসায়নিক সারে সেটা ঠেকানো যায় না। প্রতি চক্রে পচা গোবর বা কেঁচো সার মিশিয়ে দিলে মাটি ঝুরঝুরে থাকে, পানি ধরে রাখে আর শিকড় সহজে ছড়ায়।
ছাদের বাগান নিয়ে বিস্তারিত লেখা পাবেন ছাদ বাগান বিভাগে।
যে ভুলগুলো বেশি হয়
- জমির মাত্রা টবে প্রয়োগ করা। এক বিঘার হিসাব কয়েকটি টবে দিলে মাত্রা কয়েকগুণ বেশি হয়ে যায় আর গাছ মরে যেতে পারে।
- নিষ্কাশনের ছিদ্র বন্ধ থাকা। পানি জমে থাকলে যত সারই দিন, শিকড় পচে যাবে।
- ছোট টবে বড় গাছ। লাউ বা বেগুনের মতো গাছ ছোট টবে দিলে সার বাড়িয়েও লাভ হয় না।
জমিও থাকলে
মাঠের জমির জন্য আলাদা হিসাব আছে — সারের হিসাব দেখে নিন, সেখানে বিঘা, কাঠা ও শতকে হিসাব করা যায়।
টবের মাটি আগে ঠিক করুন
সার কাজে লাগে তখনই, যখন মাটি ঠিক থাকে। টবের জন্য দরকার এমন মিশ্রণ যা পানি ধরে রাখে কিন্তু জমিয়ে রাখে না। সাধারণভাবে বাগানের মাটির সঙ্গে পচা গোবর বা কম্পোস্ট মিশিয়ে, আর নিষ্কাশনের জন্য কিছুটা বালু বা কোকোপিট দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়।
প্রতি মৌসুমের শেষে টবের উপরের কিছুটা মাটি বদলে নতুন কম্পোস্ট দিলে পরের ফসল অনেক ভালো হয়। শহরের ছাদ ও বারান্দার চাষ নিয়ে সরকারি পরামর্শ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি তথ্য সার্ভিস-এর কাছে পাওয়া যায়।
কত দিন পর পর
উপরের হিসাব একটি পূর্ণ চক্রের মোট পরিমাণ। একবারে না দিয়ে কয়েক ভাগে দেওয়াই নিয়ম — টবের মাটি অল্প, তাই একসঙ্গে বেশি সার পড়লে লবণ জমে শিকড়ের ক্ষতি হয়। গাছ নতুন পাতা ছাড়ছে কি না দেখে ভাগগুলোর সময় ঠিক করুন; পাতা হলুদ হয়ে গেলে কেবল সার বাড়ানো সমাধান নয়, আগে পানি ও নিষ্কাশন দেখে নিন।
