ডিসকভারি এগ্রোটেক

সারের হিসাব

জমির পরিমাণ আর ফসলের নাম দিলে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি-র পরিমাণ কেজিতে পাওয়া যায়। বিঘা, কাঠা, শতক, একর বা হেক্টর — যে এককে মাপেন, সেই এককেই লিখুন।

হিসাব করুন

তালিকা দেখে নিতে চাইলে

হিসাবের ঘর কাজ না করলে নিচের তালিকা থেকেই সংখ্যা নিতে পারেন — দুই বিঘার জন্য দ্বিগুণ, আধা বিঘার জন্য অর্ধেক।

প্রতি বিঘা (৩৩ শতক), মধ্যম উর্বরতার মাটি
ফসল ইউরিয়া টিএসপি এমওপি
আমন ধান 27 13 11
বোরো ধান 40 17 15
গম 35 22 14
টমেটো 36 30 25
বেগুন 40 27 22
আলু 45 33 30
সূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সার সুপারিশ নির্দেশিকা — মধ্যম উর্বরতার মাটি ধরে

হিসাবটা কীভাবে পড়বেন

উপরের ঘরে জমির পরিমাণ আর ফসলের নাম দিলে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপির পরিমাণ কেজিতে দেখা যাবে। সংখ্যাগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর সার সুপারিশ নির্দেশিকা থেকে নেওয়া, এবং মধ্যম উর্বরতার মাটি ধরে হিসাব করা।

এটি পুরো মৌসুমের মোট পরিমাণ, এক বারে দেওয়ার পরিমাণ নয়। ইউরিয়া সাধারণত কয়েক কিস্তিতে ভাগ করে দিতে হয়; টিএসপি ও এমওপি বেশিরভাগ ফসলে জমি তৈরির সময় শেষ চাষে মিশিয়ে দেওয়া হয়। কোন ফসলে কয় কিস্তি আর কোন সময়ে — তা ফসলভেদে আলাদা, আপনার এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

যে তিনটি জিনিস হিসাব বদলে দেয়

  • মাটির উর্বরতা। এই হিসাব মধ্যম উর্বরতার জমির জন্য। জমি বেশি উর্বর হলে কম, বেশি ক্ষয়ে যাওয়া হলে বেশি লাগে। আপনার এলাকার মাটির শ্রেণি জানতে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এর তথ্য দেখুন।
  • জৈব সার। আগের মৌসুমে গোবর বা কম্পোস্ট দেওয়া থাকলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমে যায়। জৈব সার মাটির গঠনও ধরে রাখে, যা কেবল ইউরিয়া দিয়ে হয় না।
  • আগের ফসল। ডাল বা অড়হরের মতো শিম-জাতীয় ফসল মাটিতে নাইট্রোজেন রেখে যায়, তাই পরের ফসলে ইউরিয়া কম লাগে।

বিঘা সব জেলায় সমান নয়

এই হিসাবে ১ বিঘা = ৩৩ শতক ধরা হয়েছে, কারণ সরকারি দলিল ও খতিয়ানে এই মানটিই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্থানীয় বিঘা জেলাভেদে আলাদা — কোথাও ৩০ শতক, কোথাও আরও বেশি। আপনার এলাকার বিঘা যদি ৩৩ শতক না হয়, তাহলে ফল এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ভুল হতে পারে। নিশ্চিত না হলে শতকে মেপে নিন — শতক সারা দেশে একই।

ছাদ ও টবের বাগান হলে

টবে বা গ্রো ব্যাগে জমির হিসাব খাটে না — সেখানে মাটির আয়তন অনেক কম আর পানি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার ধুয়ে বেরিয়ে যায়। ছাদের বাগানের জন্য আলাদা হিসাব আছে: টব ও গ্রো ব্যাগে কতটুকু সার দেবেন।

যে ভুলগুলো বেশি হয়

  • একবারে সব ইউরিয়া দেওয়া। এতে গাছ হঠাৎ বাড়ে, পোকা ও রোগের ঝুঁকি বাড়ে, আর অনেকটা সার ধুয়ে নষ্ট হয়।
  • শুকনো জমিতে সার ছিটানো। মাটিতে রস না থাকলে সার কাজে লাগে না।
  • গাছের গোড়ায় ঠেসে দেওয়া। শিকড় পুড়ে যেতে পারে; গোড়া থেকে কিছুটা দূরে ছড়িয়ে দিন।

বীজ ও সেচের হিসাবও মিলিয়ে নিন

একই জমির জন্য বীজের হার আর সেচের হিসাব একসঙ্গে দেখে নিলে পুরো মৌসুমের খরচের একটা বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।

কখন সার দেবেন না

  • ভারী বৃষ্টির ঠিক আগে। ইউরিয়া পানিতে দ্রুত গলে, বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধুয়ে নেমে যায় — টাকাও যায়, ফসলও পায় না।
  • জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকলে। আগে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন, তারপর সার।
  • দুপুরের কড়া রোদে। সকাল বা বিকেলে দিলে গাছের উপর চাপ কম পড়ে।

সার প্রয়োগের ফসলভিত্তিক হালনাগাদ নির্দেশনা কৃষি তথ্য সার্ভিস-এর প্রকাশনায় পাওয়া যায়। মাঠের নির্দিষ্ট সমস্যায় স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শই চূড়ান্ত — তিনি আপনার জমি ও মাটি দেখে বলতে পারবেন।

অন্য হিসাব

Scroll to Top