হিসাবটা কীভাবে পড়বেন
উপরের ঘরে জমির পরিমাণ আর ফসলের নাম দিলে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপির পরিমাণ কেজিতে দেখা যাবে। সংখ্যাগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর সার সুপারিশ নির্দেশিকা থেকে নেওয়া, এবং মধ্যম উর্বরতার মাটি ধরে হিসাব করা।
এটি পুরো মৌসুমের মোট পরিমাণ, এক বারে দেওয়ার পরিমাণ নয়। ইউরিয়া সাধারণত কয়েক কিস্তিতে ভাগ করে দিতে হয়; টিএসপি ও এমওপি বেশিরভাগ ফসলে জমি তৈরির সময় শেষ চাষে মিশিয়ে দেওয়া হয়। কোন ফসলে কয় কিস্তি আর কোন সময়ে — তা ফসলভেদে আলাদা, আপনার এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নেওয়াই নিরাপদ।
যে তিনটি জিনিস হিসাব বদলে দেয়
- মাটির উর্বরতা। এই হিসাব মধ্যম উর্বরতার জমির জন্য। জমি বেশি উর্বর হলে কম, বেশি ক্ষয়ে যাওয়া হলে বেশি লাগে। আপনার এলাকার মাটির শ্রেণি জানতে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এর তথ্য দেখুন।
- জৈব সার। আগের মৌসুমে গোবর বা কম্পোস্ট দেওয়া থাকলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমে যায়। জৈব সার মাটির গঠনও ধরে রাখে, যা কেবল ইউরিয়া দিয়ে হয় না।
- আগের ফসল। ডাল বা অড়হরের মতো শিম-জাতীয় ফসল মাটিতে নাইট্রোজেন রেখে যায়, তাই পরের ফসলে ইউরিয়া কম লাগে।
বিঘা সব জেলায় সমান নয়
এই হিসাবে ১ বিঘা = ৩৩ শতক ধরা হয়েছে, কারণ সরকারি দলিল ও খতিয়ানে এই মানটিই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্থানীয় বিঘা জেলাভেদে আলাদা — কোথাও ৩০ শতক, কোথাও আরও বেশি। আপনার এলাকার বিঘা যদি ৩৩ শতক না হয়, তাহলে ফল এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ভুল হতে পারে। নিশ্চিত না হলে শতকে মেপে নিন — শতক সারা দেশে একই।
ছাদ ও টবের বাগান হলে
টবে বা গ্রো ব্যাগে জমির হিসাব খাটে না — সেখানে মাটির আয়তন অনেক কম আর পানি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার ধুয়ে বেরিয়ে যায়। ছাদের বাগানের জন্য আলাদা হিসাব আছে: টব ও গ্রো ব্যাগে কতটুকু সার দেবেন।
যে ভুলগুলো বেশি হয়
- একবারে সব ইউরিয়া দেওয়া। এতে গাছ হঠাৎ বাড়ে, পোকা ও রোগের ঝুঁকি বাড়ে, আর অনেকটা সার ধুয়ে নষ্ট হয়।
- শুকনো জমিতে সার ছিটানো। মাটিতে রস না থাকলে সার কাজে লাগে না।
- গাছের গোড়ায় ঠেসে দেওয়া। শিকড় পুড়ে যেতে পারে; গোড়া থেকে কিছুটা দূরে ছড়িয়ে দিন।
বীজ ও সেচের হিসাবও মিলিয়ে নিন
একই জমির জন্য বীজের হার আর সেচের হিসাব একসঙ্গে দেখে নিলে পুরো মৌসুমের খরচের একটা বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।
কখন সার দেবেন না
- ভারী বৃষ্টির ঠিক আগে। ইউরিয়া পানিতে দ্রুত গলে, বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধুয়ে নেমে যায় — টাকাও যায়, ফসলও পায় না।
- জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকলে। আগে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন, তারপর সার।
- দুপুরের কড়া রোদে। সকাল বা বিকেলে দিলে গাছের উপর চাপ কম পড়ে।
সার প্রয়োগের ফসলভিত্তিক হালনাগাদ নির্দেশনা কৃষি তথ্য সার্ভিস-এর প্রকাশনায় পাওয়া যায়। মাঠের নির্দিষ্ট সমস্যায় স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শই চূড়ান্ত — তিনি আপনার জমি ও মাটি দেখে বলতে পারবেন।
