হিসাবটা কী দেখাচ্ছে
জমি আর ফসল দিলে দুটো সংখ্যা পাওয়া যায় — প্রতিবার সেচে কত পানি লাগবে, আর পুরো মৌসুমে মোট কতটা। দুটোই ঘনমিটারে। হিসাব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর নির্দেশনা ধরে, মধ্যম দোআঁশ মাটি ও বৃষ্টি বাদ দিয়ে করা।
বৃষ্টি হলে হিসাব কমে
এই সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রয়োজন ধরে, অর্থাৎ বৃষ্টি না হলে যতটা লাগত। বর্ষায় বা অসময়ের বৃষ্টির পর সেচের সংখ্যা কমে যায় — জমিতে রস আছে কি না দেখে সিদ্ধান্ত নিন, ক্যালেন্ডার ধরে নয়।
- মাটির ধরন। বেলে মাটিতে পানি দ্রুত নেমে যায়, তাই কম পানিতে ঘন ঘন সেচ লাগে। এঁটেল মাটিতে উল্টো।
- ফসলের সংকটকাল। প্রতিটি ফসলের কিছু ধাপ আছে যখন পানির অভাব সরাসরি ফলন কমায় — যেমন কাইচ থোড় ও ফুল আসার সময়। ওই সময়ে সেচ বাদ দেবেন না।
- নিষ্কাশন। বেশি পানিও ক্ষতি — শিকড় বাতাস পায় না, গোড়া পচে।
বিঘা সব জেলায় সমান নয়
এই হিসাবে ১ বিঘা = ৩৩ শতক ধরা হয়েছে, কারণ সরকারি দলিল ও খতিয়ানে এই মানটিই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্থানীয় বিঘা জেলাভেদে আলাদা — কোথাও ৩০ শতক, কোথাও আরও বেশি। আপনার এলাকার বিঘা যদি ৩৩ শতক না হয়, তাহলে ফল এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ভুল হতে পারে। নিশ্চিত না হলে শতকে মেপে নিন — শতক সারা দেশে একই।
পানি বাঁচানোর কথা
সেচের পানি ও জ্বালানি বোরো মৌসুমের সবচেয়ে বড় খরচের একটি। ধানের ক্ষেতে সারাক্ষণ পানি দাঁড় করিয়ে রাখতেই হয় না — মাটি ফাটার আগে আবার সেচ দেওয়ার পদ্ধতিতে পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাঁচে। ধানের সেচ ব্যবস্থাপনার হালনাগাদ পরামর্শ ব্রি-এর কাছ থেকে নেওয়াই ভালো, কারণ এটি জাত ও মৌসুম অনুযায়ী বদলায়।
কোন মৌসুমে কোন কাজ, তা এক নজরে দেখতে ফসল পঞ্জিকা দেখুন।
কখন সেচ দেবেন, বুঝবেন কীভাবে
ক্যালেন্ডার নয়, জমি দেখে সিদ্ধান্ত নিন। সহজ পরীক্ষা: গোড়ার কাছ থেকে কিছুটা মাটি তুলে হাতের মুঠোয় চাপ দিন। মুঠো খুললে মাটি জমাট বেঁধে থাকলে রস আছে; ঝুরঝুর করে ভেঙে গেলে সেচ দরকার।
সকাল বা বিকেলে সেচ দিলে বাষ্প হয়ে কম পানি নষ্ট হয়। দুপুরের কড়া রোদে সেচ দিলে অনেকটা পানি মাটিতে পৌঁছানোর আগেই উবে যায়।
ফসলভিত্তিক সেচের সময়সূচি ও পানির হিসাব নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা কৃষি তথ্য সার্ভিস-এর প্রকাশনায় ও স্থানীয় কৃষি অফিসে পাওয়া যায়।
নিষ্কাশনও সেচের অংশ
সেচ মানে কেবল পানি দেওয়া নয় — বাড়তি পানি বের করে দেওয়াও এর অংশ। বর্ষায় বা টানা বৃষ্টির পর জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকলে শিকড় বাতাস পায় না, গোড়া পচে যায় আর ছত্রাকজনিত রোগ দ্রুত ছড়ায়। নালা আগেই কেটে রাখুন, পানি জমার পর নয়।
