ডিসকভারি এগ্রোটেক

বীজের হার

জমি আর ফসল দিলে বীজের ওজন পাওয়া যায়, সঙ্গে রোপণের দূরত্ব। ধানের হিসাব বীজতলার — অর্থাৎ যত বীজ ফেললে ওই জমির চারা হয়।

হিসাব করুন

তালিকা দেখে নিতে চাইলে

হিসাবের ঘর কাজ না করলে নিচের তালিকা থেকেই সংখ্যা নিতে পারেন — দুই বিঘার জন্য দ্বিগুণ, আধা বিঘার জন্য অর্ধেক।

প্রতি বিঘা (৩৩ শতক)
ফসল বীজ (কেজি) দূরত্ব
আমন ধান (বীজতলা) 4 ২০ × ১৫ সেমি
বোরো ধান (বীজতলা) 4 ২০ × ১৫ সেমি
আউশ ধান (ছিটিয়ে) 13.4 ছিটিয়ে বপন
গম 16 সারি ২০ সেমি
ভুট্টা 3.3 ৭৫ × ২৫ সেমি
আলু (বীজ আলু) 200 ৬০ × ২৫ সেমি
সরিষা 1.1 সারি ৩০ সেমি
পাট 1.1 সারি ৩০ সেমি
সূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বারি, বীজ হার নির্দেশিকা

হিসাবটা কী বলছে

জমির পরিমাণ আর ফসল দিলে বীজের ওজন কেজিতে পাওয়া যায়, সঙ্গে রোপণের দূরত্ব। হার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বারি-এর নির্দেশিকা থেকে নেওয়া।

ধানের হিসাবটা বীজতলার। অর্থাৎ ওই পরিমাণ জমিতে চারা লাগাতে বীজতলায় যত বীজ ফেলতে হবে, সেটাই দেখানো হচ্ছে — সরাসরি জমিতে ছিটানোর পরিমাণ নয়। কৃষক বাজারে যেটা কেনেন, এটি সেই হিসাব।

বীজের মান হিসাব বদলে দেয়

এই হার ধরে নেয় যে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ভালো। পুরনো বীজ, ভেজা জায়গায় রাখা বীজ বা নিজে রাখা বীজে গজানোর হার কম হয় — তখন একই জমির জন্য বেশি বীজ লাগে।

  • বপনের আগে ঘরেই পরীক্ষা করে নিন: ভেজা কাপড়ে ১০০টি বীজ রেখে কয়টি গজায় গুনুন।
  • ১০০টির মধ্যে ৮০টির কম গজালে হার বাড়িয়ে নিতে হবে, নয়তো ফসল পাতলা হবে।
  • মানসম্মত বীজের উৎস হিসেবে বিএডিসি-এর বীজ ডিলারদের কথা মনে রাখতে পারেন।

বিঘা সব জেলায় সমান নয়

এই হিসাবে ১ বিঘা = ৩৩ শতক ধরা হয়েছে, কারণ সরকারি দলিল ও খতিয়ানে এই মানটিই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্থানীয় বিঘা জেলাভেদে আলাদা — কোথাও ৩০ শতক, কোথাও আরও বেশি। আপনার এলাকার বিঘা যদি ৩৩ শতক না হয়, তাহলে ফল এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ভুল হতে পারে। নিশ্চিত না হলে শতকে মেপে নিন — শতক সারা দেশে একই।

দূরত্ব কেন হারের সমান গুরুত্বপূর্ণ

বেশি বীজ দিলেই বেশি ফলন হয় না। ঘন হয়ে গেলে গাছগুলো আলো, পানি ও খাবারের জন্য নিজেদের মধ্যেই লড়ে, গাছ লিকলিকে হয়, আর ভেতরে বাতাস চলাচল না হওয়ায় রোগ দ্রুত ছড়ায়। তালিকায় দেওয়া দূরত্ব মেনে চললে একই বীজে ভালো ফলন আসে।

কোন জাত আপনার জমি ও মৌসুমের জন্য ঠিক, তা দেখে নিতে পারেন বীজ ও জাত বিভাগে। ধানের জাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ব্রি-এর কাছে আছে।

বীজ কেনার আগে

একই জমির সারের হিসাব আগে করে নিলে বীজ ও সার দুটোর খরচ একসঙ্গে হিসাব করে বাজারে যাওয়া যায়।

বপনের আগে যা করবেন

বীজ বোনার আগে ঝরা, চিটা ও ভাঙা বীজ বেছে ফেলে দিন — এগুলো গজায় না, অথচ হিসাবের মধ্যে থেকে যায়। শক্ত খোসার বীজ কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে নিলে গজানো সহজ হয়, তবে কতক্ষণ ভেজাবেন তা ফসলভেদে আলাদা।

বীজতলা তৈরির সময় জমি ভালোভাবে সমান করে নিন, যাতে পানি এক জায়গায় না জমে। চারা তোলার সময় শিকড়ে যেন কম টান পড়ে, সেজন্য বীজতলা ভিজিয়ে নিয়ে তারপর চারা তোলা ভালো। ফসলভিত্তিক বীজ ও বীজতলার নির্দেশনা কৃষি তথ্য সার্ভিস-এর প্রকাশনায় আছে।

বেঁচে যাওয়া বীজ পরের মৌসুমের জন্য রাখলে শুকনো, ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। ভেজা জায়গায় রাখা বীজ দেখতে ভালো থাকলেও গজানোর ক্ষমতা হারায়, আর সেটা বোঝা যায় জমিতে বোনার পর — তখন আর কিছু করার থাকে না।

অন্য হিসাব

Scroll to Top