কেন এতগুলো একক
বাংলাদেশে জমি মাপার একক এক জায়গায় থেমে নেই। দলিল ও খতিয়ানে লেখা থাকে শতক, বাজারে ও আলাপে চলে বিঘা আর কাঠা, আর সরকারি হিসাব ও গবেষণার কাগজে থাকে হেক্টর। একই জমি, তিন রকম সংখ্যা।
উপরের ঘরে যেকোনো একটি এককে সংখ্যা বসালে বাকি সব এককে কত দাঁড়ায় তা একসঙ্গে দেখা যায়।
যে মানগুলো ধরা হয়েছে
- ১ বিঘা = ৩৩ শতক
- ১ কাঠা = ১.৬৫ শতক (২০ কাঠায় ১ বিঘা)
- ১ একর = ১০০ শতক
- ১ হেক্টর = ২৪৭.১০৫ শতক
- ১ শতক = ৪০.৪৭ বর্গমিটার
শতক সারা দেশে একই — একরের একশো ভাগের এক ভাগ। এ কারণেই সব রূপান্তর শতকের উপর দাঁড় করানো।
বিঘা সব জেলায় সমান নয়
এই হিসাবে ১ বিঘা = ৩৩ শতক ধরা হয়েছে, কারণ সরকারি দলিল ও খতিয়ানে এই মানটিই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্থানীয় বিঘা জেলাভেদে আলাদা — কোথাও ৩০ শতক, কোথাও আরও বেশি। আপনার এলাকার বিঘা যদি ৩৩ শতক না হয়, তাহলে ফল এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ভুল হতে পারে। নিশ্চিত না হলে শতকে মেপে নিন — শতক সারা দেশে একই।
কোথায় কোন একক ব্যবহার করবেন
- দলিল, খতিয়ান বা নামজারিতে — শতক। কাগজে যা লেখা, তা-ই লিখুন।
- সার, বীজ বা সেচের হিসাবে — যে এককে জমি চেনেন সেটাই দিন, আমাদের হিসাবগুলো নিজেরাই রূপান্তর করে নেয়।
- সরকারি আবেদন বা প্রণোদনার ফরমে — বেশিরভাগ সময় হেক্টর। ফরমে কোন একক চাওয়া হয়েছে, ভালো করে দেখে নিন।
জমির পরিমাণ ঠিক করে নেওয়ার পর সারের হিসাব বা বীজের হার দুটোই সরাসরি কাজে লাগানো যায়।
মাপ নেওয়ার সময় যা ভুল হয়
- আন্দাজে হিসাব। “প্রায় এক বিঘা” ধরে সার কিনলে মাত্রা সহজেই ২০–৩০ শতাংশ এদিক-ওদিক হয়ে যায়।
- আইল ও নালা বাদ না দেওয়া। যে অংশে ফসল হবে না, সেটুকু বাদ দিয়ে হিসাব করুন — নইলে সার ও বীজ দুটোই বেশি কেনা হয়।
- দুই একক মিশিয়ে ফেলা। কাগজে শতক, মুখে বিঘা — একটিতে এনে নিয়ে তারপর হিসাব করুন।
জমির শ্রেণি ও মাটির তথ্যের জন্য মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট দেখুন। ফসল অনুযায়ী কত জমিতে কী পরিমাণ লাগবে তার সরকারি নির্দেশনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর কাছে আছে।
সব হিসাব শতকের উপর কেন
শতক সারা দেশে এক — একরের একশো ভাগের এক ভাগ, আইনি সংজ্ঞায় বাঁধা। বিঘা ও কাঠা অঞ্চলভেদে বদলায়, তাই সেগুলোকে ভিত্তি ধরলে হিসাব জায়গা বদলালেই ভুল হয়ে যেত। এ কারণেই এখানে সব রূপান্তর আগে শতকে এনে, তারপর অন্য এককে নেওয়া হয়।
জমির কাগজে লেখা পরিমাণ আর মাঠে মেপে পাওয়া পরিমাণে পার্থক্য থাকলে কাগজের হিসাবটিই আইনি, কিন্তু সার ও বীজের হিসাব করতে হবে যে জমিতে সত্যিই ফসল হবে সেই পরিমাণ ধরে।
