বাংলাদেশের তিন মৌসুম
বাংলাদেশে চাষ হয় তিনটি মৌসুম ধরে — খরিফ-১, খরিফ-২ আর রবি। এখানে জায়েদ বলে কোনো মৌসুম নেই; সেটি ভারতের শ্রেণিবিভাগ।
- খরিফ-১ (বৈশাখ–আষাঢ়) — গরম, প্রাক-বর্ষা। পাট ও আউশের বপন, গ্রীষ্মের সবজি, আম ও লিচুর ফল ধরা।
- খরিফ-২ (শ্রাবণ–আশ্বিন) — বর্ষা। আমন রোপণ, শীতের সবজির বীজতলা, আর নিষ্কাশন ও ছত্রাকজনিত রোগের মৌসুম।
- রবি (কার্তিক–চৈত্র) — শীত ও শুকনো। সবচেয়ে বড় মৌসুম: আলু, সরিষা, গম, বোরো আর শীতের সবজির পুরো তালিকা।
বাংলা মাস ধরেই কেন
পঞ্জিকা সাজানো হয়েছে বাংলা মাসে, ইংরেজি মাসে নয় — কারণ বপন, সেচ আর কাটার কাজ মাঠে ওই ক্যালেন্ডারেই পরিকল্পনা হয়। অগ্রহায়ণে ধান ওঠে, ফাল্গুনে আমের মুকুল আসে; এগুলো কথার কথা নয়, কাজের সময়সূচি।
এটি সারা দেশের গড়
একই ফসলের সময় বিভাগভেদে দুই-তিন সপ্তাহ আগে-পিছে হতে পারে। উত্তরাঞ্চলে শীত আগে নামে, উপকূলে লবণাক্ততা আর জোয়ার হিসাব বদলে দেয়, হাওরে আগাম বন্যার ঝুঁকি থাকে। নিজের এলাকার সঠিক সময় জানতে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মিলিয়ে নিন — কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর মাঠপর্যায়ের পরামর্শই এখানে চূড়ান্ত।
ফসলভিত্তিক বিস্তারিত গাইড আছে ফসলের গাইড বিভাগে, আর মৌসুমের রোগ ও পোকা নিয়ে লেখা আছে রোগ ও পোকা বিভাগে।
মৌসুম ধরে হিসাব করে নিন
মৌসুম ঠিক করার পর বীজের হার, সারের হিসাব আর সেচের হিসাব — তিনটিই এক জায়গা থেকে করে নেওয়া যায়।
মৌসুম বদলের সময়টাই সবচেয়ে ব্যস্ত
এক মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই পরেরটির প্রস্তুতি শুরু হয়। ভাদ্র–আশ্বিনে আমন মাঠে থাকতেই শীতের সবজির বীজতলা করতে হয়; কার্তিকে আমন কাটার সঙ্গে সঙ্গে আলু ও সরিষার জমি তৈরি হয়। এই ওভারল্যাপগুলো আগে থেকে ধরে না রাখলে বীজতলা দেরি হয়ে যায়, আর দেরি হলে পুরো মৌসুমের ফলন কমে।
ফসলভিত্তিক সময়সূচি ও জাত নির্বাচনের হালনাগাদ নির্দেশনা কৃষি তথ্য সার্ভিস ও বারি-এর প্রকাশনায় পাওয়া যায়; ধানের ক্ষেত্রে ব্রি।
প্রতিটি মৌসুমের নিজস্ব ঝুঁকি
- খরিফ-১ — প্রাক-বর্ষার হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি। আম ও লিচুর জন্য এই সময়টাই সবচেয়ে ঝুঁকির।
- খরিফ-২ — টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও উচ্চ আর্দ্রতা। ছত্রাকজনিত রোগ আর গোড়া পচা এই সময়েই সবচেয়ে বেশি হয়; নিষ্কাশন আগেভাগে ঠিক করে রাখুন।
- রবি — কুয়াশা ও শীতের চাপ। কুয়াশা দীর্ঘ হলে আলুর নাবি ধসার ঝুঁকি বাড়ে, আর সেচের প্রয়োজনও এই মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি।
মৌসুম শুরুর আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আর স্থানীয় কৃষি অফিসের সতর্কবার্তা দেখে নেওয়া অভ্যাস করলে অনেক ক্ষতি আগেই ঠেকানো যায়।
পঞ্জিকা ধরে আগেভাগে পরিকল্পনা করলে বীজ, সার ও শ্রমিক — তিনটিই সময়মতো জোগাড় করা যায়। মৌসুমের মুখে গিয়ে খুঁজলে দাম বেশি পড়ে, আর কাঙ্ক্ষিত জাত অনেক সময় পাওয়াই যায় না।
